বিশেষ প্রতিনিধি: দেশে চাঞ্চল্যকর শিশু হত্যা মামলাগুলোর দীর্ঘসূত্রতা ও ধীরগতির বিচারপ্রক্রিয়া নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন নিহতের পরিবার, মানবাধিকারকর্মী ও আইন বিশেষজ্ঞরা। বিচার বিলম্বিত হলে প্রমাণ নষ্টের সুযোগ তৈরি হয় এবং শেষ পর্যন্ত 'বিচারহীনতার সংস্কৃতি' চেপে বসে—এমন শঙ্কা প্রকাশ করে মামলাগুলোর দ্রুত নিষ্পত্তির আকুল দাবি জানানো হয়েছে।
একটি সভ্য সমাজে শিশুদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা রাষ্ট্রে অন্যতম প্রধান দায়িত্ব। অথচ একের পর এক শিশু হত্যার পর তদন্ত ও বিচারপ্রক্রিয়ার দীর্ঘসূত্রতায় ন্যায়বিচার পাওয়া নিয়ে শঙ্কায় পড়ছেন ভুক্তভোগী পরিবারগুলো।
তদন্তের ধীরগতি ও ত্রুটি: তদন্তকারী সংস্থাগুলোর তথ্য-প্রমাণ সংগ্রহ ও চার্জশিট জমা দিতে বিলম্ব হওয়া।
সাক্ষীদের অনিহা ও অনুপস্থিতি: দীর্ঘ সময় মামলা ঝুলে থাকায় সাক্ষীদের নিরাপত্তা বিঘ্নিত হওয়া এবং আদালতে সাক্ষীদের নিয়মিত হাজির করতে না পারা।
আদালতে মামলার জট: দেশের আদালতগুলোতে বিপুল সংখ্যক মামলার জট থাকায় চাঞ্চল্যকর শিশু হত্যা মামলাগুলোর নিয়মিত শুনানিতে বিলম্ব ঘটা।
আইন বিশ্লেষক ও মানবাধিকার কর্মীদের মতে, শিশুদের ওপর যেকোনো সহিংসতা ও হত্যার বিচার অগ্রাধিকার ভিত্তিতে করা উচিত। ন্যায়বিচারের স্বার্থে তাদের প্রধান দাবিসমূহ:
১. বিশেষ ট্রাইব্যুনালে দ্রুত বিচার: শিশু নির্যাতন ও হত্যা মামলাগুলো নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে নিষ্পত্তির জন্য দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালে পাঠানোর পদক্ষেপ গ্রহণ করা।
২. নির্ধারিত সময়সীমা নিশ্চিতকরণ: তদন্ত ও সাক্ষ্যগ্রহণের জন্য একটি নির্দিষ্ট সময়সীমা (Timeframe) বেঁধে দেওয়া এবং তা কড়াকড়িভাবে মেনে চলা।
৩. সাক্ষী সুরক্ষা আইন বাস্তবায়ন: ভীতিহীনভাবে যেন সাক্ষীরা আদালতে সাক্ষ্য দিতে পারেন, সেজন্য উপযুক্ত নিরাপত্তা নিশ্চিত করা।
উপসংহার: "দেরিতে বিচার পাওয়া মানে ন্যায়বিচার থেকে বঞ্চিত হওয়া"—আইনের এই চিরন্তন সত্য স্মরণ করিয়ে দিয়ে সচেতন মহল বলছেন, শিশুদের নিরাপত্তা ও সামাজিক অপরাধ রোধে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করা জরুরি। দ্রুততম সময়ে এসব মামলার বিচার সম্পন্ন করে অপরাধীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি না দিলে সমাজে অপরাধ প্রবণতা আরও বাড়বে।
আপনার মতামত লিখুন :